"ব্রহ্ম সত্য জগন্মিথ্যা জীব ব্রহ্মৈব নাপরঃ॥" - আদি শঙ্করাচার্য
আজ বৈশাখ শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথি, আদি শঙ্করাচার্যের জন্ম তিথি।
আদি শঙ্করাচার্য এর জন্ম হয় তার মাতুলালয়ে কেরালার ভেলিয়ানাড গ্রামে যা বর্তমানে আদি শঙ্কর নিলায়ম্ নামে পরিচিত ও চিন্ময় ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন এর অধীনস্ত। শঙ্করাচার্য এরপর বড় হন কালাডিতে নিজের পিতৃগৃহে। তিনি জন্ম নেন শিবগুরু ও আর্যম্বার সন্তান রূপে।
দীর্ঘ সময় সন্তান না হওয়ায় ভগবান শিবের তপস্যা ও পুজো করে তাঁরা স্বয়ং শিবের বরদান লাভ করেন হয় স্বল্পায়ু জ্ঞানী নয়তো দীর্ঘায়ু অজ্ঞানী সন্তান লাভ করবেন। শিবগুরু স্বল্পায়ু জ্ঞানী সন্তান লাভের আশা প্রকাশ করলে স্বয়ং শিব শঙ্কর রূপে এই ধরাধামে অবতীর্ণ হন।
মাত্র ২ বছর বয়স থেকে তিনি শ্লোক পাঠ আরম্ভ করেন। একটি শ্লোকের মাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন বয়সের কৃতকর্মের উল্লেখ করা হয়েছে -
অষ্টমে চতুর বেদা দ্বাদশে সর্ব শাস্ত্রবিদ।
ষোড়শে কৃতবান্ ভাষ্যং দ্বাত্রিংশে মুনিরভ্যগাৎ।।
অর্থাৎ, আট বছর বয়সে তিনি চার বেদ অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন এবং দ্বাদশ বছর বয়সের মধ্যে সমস্ত শাস্ত্র আয়ত্ত করে ফেলেন। তারপর ষোল বছর বয়সে তিনি ভাষ্য রচনা করেন এবং বত্রিশ বছর বয়সে তিনি বিলীন হয়ে যান।
অলৌকিক ঘটনা বহুল প্রেক্ষিতে মায়ের অনুমতি নিয়ে সন্ন্যাস গ্রহনের পর উনি ওনার গুরুর সন্ধ্যানে নর্মদা তীরের গুহায় যান গুরু গোবিন্দ ভগবদ্পাদের কাছে।গুরু ওনার পরিচ্য় জানতে চাইলে মাত্র আট বচর বয়সে উনি রচনা করেন নির্বাণষট্কম্ (মতান্তরে দশশ্লোকী)। এমন আরও অনেক কথা আছে ওনার জীবনের সঙ্গে যুক্ত, পরবর্তী কোনো ব্লগে তা আলোচনা করা যাবে।
এরমধ্যে অর্থাৎ ভাষ্য রচনার পরে তিনি সমগ্র (অখন্ড) ভারতবর্ষের পরিক্রমা করেছেন তিন বার। ভারতের চারপ্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করেছেন হিন্দু সনাতন শাস্ত্রের পীঠস্থান রূপে। ওনার এই যাত্রাকে দিগ্বিজয় বলা হয়। এই চারটি মঠ যথাক্রমে পূর্বদিকে পুরী, পশ্চিমদিকে দ্বারকা, উত্তরে বদ্রি মঠ এবং দক্ষিণে শৃঙ্গেরী মঠ। এছাড়াও তামিলনাড়ুর কাঞ্চিমঠ কাশ্মীরের সর্বজ্ঞপীঠ প্রসিদ্ধ।
এই সময়কালে তিনি অসংখ্য প্রকরণ গ্রন্থ রচনা করেন যা অত্যন্ত সহজ ভাবে অদ্বৈত বেদান্তকে আমাদের সামনে তুলে ধরে। যেমন তত্ত্ববোধ, আত্মবোধ, বিবেক চূড়ামণি ইত্যাদি।
শুধু তাই না তিনি যে স্থানে গেছেন যে দেব দেবীর মন্দির, নদী দর্শন করেছেন তাঁর শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ও ব্যবহারিক আরাধনার সুবিধার্থে একটি করে স্তোত্র রচনা করেছেন যেমন ভবান্যষ্টকম্, অন্নপূর্ণাস্তোত্রম্, গঙ্গাস্তোত্রম্, নির্বানষ্টকম্ ইত্যাদি।
শঙ্করাচার্যের পরমহৎ অবদান হচ্ছে প্রস্থানত্রয়ীর ভাষ্য রচনা। প্রস্থানত্রয়ী হল উপনিষদ, ব্রহ্ম সূত্র এবং শ্রীমদ্ভগবত গীতা। শঙ্করাচার্যের ভাষ্য শ্রীমদ্ভগবত গীতাকে আমাদের সামনে এক নতুন ভাবে তুলে ধরেছে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবে হিন্দু ধর্মের চাপা পড়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে পুনঃ স্থাপিত করেছেন তিনি।
আজ ওনার জন্ম তিথিতে ওনার চরণে কোটি কোটি প্রণাম॥
শুভ আদি শঙ্কর জয়ন্তী 🙏🏻
কলমে,
স্পন্দিতা মুখার্জী
দর্শন চর্চা